ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম কী এবং কেন পালন করা হয়?
বাগদাদে আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর সমাধির গম্বুজ। ছবি: সংগৃহীত
রবিউস সানির ১১ তারিখ এলেই মুসলিমদের মধ্যে আলোচনায় আসে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম। পবিত্র এই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত সাধক ও আলেম হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর নাম। কিন্তু কী এই ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম, কেনই বা দিনটি স্মরণ করা হয়?
‘ইয়াজদাহম’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, হিজরি ৫৬১ সালের ১১ রবিউস সানিতে হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.) ইন্তেকাল করেন। তাঁর স্মরণে এ’দিন ফাতেহা, দোয়া-মোনাজাত ও ইসালে সওয়াবের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে এই উপলক্ষে সরকারি ঐচ্ছিক ছুটিও রয়েছে।
কে ছিলেন আবদুল কাদির জিলানি?
‘বড় পীর’ নামে পরিচিত হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.) ছিলেন বিশিষ্ট আলেম ও সাধক। হিজরি ৪৭০ সালে ইরানের জিলান অঞ্চলে তার জন্ম। ধর্মীয় জ্ঞান, হাদিস ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার পাণ্ডিত্যের কথা উল্লেখ রয়েছে। ‘ফাতহুল গায়ব’ ও ‘গুনিয়াতুত তালেবিন’ তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
কেন পালন করা হয় এই দিন?
হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর ধর্মীয় শিক্ষা, দাওয়াত ও অবদান স্মরণ করতেই অনেকে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালন করেন। এই উপলক্ষে তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা, দোয়া-মোনাজাত এবং ইসালে সওয়াবের আয়োজন করা হয়।
মৃত্যুর তারিখ নিয়েও রয়েছে মতভেদ
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের সঙ্গে ১১ রবিউস সানির সম্পর্ক থাকলেও, এটিই আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর মৃত্যুর সঠিক তারিখ - এই বিষয়ে ঐতিহাসিকভাবে সর্বসম্মতি নেই।
‘তাফুরিহুল খাতির ফি মানাকিবিশ শায়খ আবদুল কাদির’ নামের জীবনীগ্রন্থে তার মৃত্যুর তারিখ নিয়ে রবিউস সানির ৭, ৯, ১০, ১১, ১৩, ১৭ ও ১৮ তারিখের উল্লেখ পাওয়া যায়। আবার কারও মতে, তিনি রবিউল আউয়ালের ১০ তারিখে ইন্তেকাল করেন। এসব মতের মধ্যে গ্রন্থকার ১০ রবিউস সানির মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
// ইমরান//
