হুথিদের ঠেকাতে সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবে সেনা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র আওতায় পাকিস্তানি সেনারা দেশটিতে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছে বলে নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। রিয়াদে অনুষ্ঠিত ৩ দেশের এক বৈঠকের পর এই তথ্য সামনে এলো।
সম্প্রতি সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, "পাকিস্তানি বাহিনী ইতোমধ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছে।" এটি নতুন কোনো বিষয় নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, কয়েক দশক ধরেই পাকিস্তানি সেনারা সৌদি আরবে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে আসছে। মূলত গত ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো। চুক্তি অনুযায়ী, ৩ দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত ৫ অক্টোবর রিয়াদে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। সেখানে সৌদি আরবের ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সামরিক সহযোগিতাকে জোরদার করতে পাকিস্তান ইতোমধ্যে ৮ হাজার সেনা, যুদ্ধবিমান ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে।
পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র জানান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের এই ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, "পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ৩ দেশের জনগণের মধ্যেও রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।" এদিকে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষামূলক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে তুরস্কও।
//আইই//
