২৪ ঘন্টায় সাবের চৌধুরী কিভাবে জামিনে মুক্ত, প্রশ্ন রিজভীর
বিএনপি
প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর ২০২৪, ৫:১৮:৩১
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীর নির্দেশে ১১ টি গুম খুন হয়েছে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে তার মত লোক কিভাবে জামিনে মুক্তি পায়?
বৃহস্পতিবার খিলগাঁওয়ে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বিচারের দাবিতে গুম খুন হাওয়া শহীদ পরিবারের সদস্যরা এ সমাবেশের আয়োজন করেন।
রিজভী বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্র্বতীকালীন সরকারে প্রধান। উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন। তিনি আইন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে থাকা অবস্থায়, একজন খুনি কিভাবে জামিন পায়! এই এলাকায় কি রকম জুলুম নিপীড়ন নির্যাতন চালিয়েছেন, কতজন হাত-পা হারিয়েছেন। জনির মত তরুণ ছেলে জীবন দিয়েছেন। তাকে বাড়ি থেকে তুলে এই জায়গায় নিয়ে এসে ১৬ টি গুলি করে হত্যা করেছে। সাবের হোসেন চৌধুরীর এর দায় নয় কি? তার নির্দেশেই (সাবির হোসেন চৌধুরী) ওই এলাকায় ১১ জন গুম খুনের শিকার হয়েছে। এর দায় তিনি এড়াতে পারেন ?
আরো পড়ুন: পোষাক শিল্পে অস্থিরতা পরিকল্পিত চক্রান্ত
তিনি বলেন, যার সন্তানকে খুন করা হয়েছে, সেই বাবার চোখের পানি মোছার টিস্যু এখনো তৈরি হয়নি। ছাত্র আন্দোলনে এই এলাকার পাঁচ জন শহীদ হয়েছেন। শেখ হাসিনা গণহত্যা চালিয়েছেন। তার সহযোগী এই সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি তো শেখ হাসিনার চেতনায় লালিত পালিত। তাদের আমলে কেউ গণতন্ত্রের পক্ষে টু শব্দ করতে পারেনি । বিএনপির পক্ষে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে, তারেক রহমানের পক্ষে কেউ কথা বলতে পারেননি। এই জন্যেই তিনি (সাবের হোসেন চৌধুরী) গুম খুনের কর্মসূচি সফল করেছেন।
ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ছাত্রলীগ খুন করেছে মামলা হতে দেয়নি। দখলবাজি করেছে মামলা নেয়নি। শেখ হাসিনা চাননি, তাই মামলা হয়নি। ড. ইউনূসের অন্তর্র্বতীকালীন সরকার আন্দোলনের, জনগণের সমর্থিত সরকার। তারা যদি শেখ হাসিনার অনুসারী হয়। এই অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের আসিফ নজরুলের মত মানুষ আছে। তারা থাকা অবস্থায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে কিভাবে সাবের হোসেন চৌধুরী জামিনে মুক্তি পায়। তাহলে এই সরকার কাকে প্রটেকশন দিচ্ছে?
আরো পড়ুন: ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারের দোসরদের স্থান হবে না : রিজভী
সাবের হোসেন চৌধুরী বিনা ভোটে বছরের পর বছর এমপি থেকেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার নির্দেশেই এতগুলো খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যা হয়েছে। তিনি যদি জামিনে মুক্তি পান, তাহলে যারা অর্থ কেলেঙ্কারি যেসব পুলিশ ক্রসফায়ার দিয়েছে, বাসা থেকে তুলে নিয়ে আঙ্গুলের নখ তুলে ফেলেছে, মাথায় বন্দুক রেখে গুলি করে হত্যা করেছে, তারা তো কয়েকদিনের মধ্যে ছাড়া পেয়ে যাবে। এর উত্তর কি দিবেন অন্তর্র্বতীকালীন সরকার?
পরে সাবের চৌধুরীর গ্রেফতার দাবিতে রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ করেন নেতাকর্মীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রশিদ হাবিব, মহানগর বিএনপি নেতা ইউনূস মৃধা, সাবেক কাউন্সিলর লিটন, সেচ্ছাসেবক দলের সহ সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির, যুবদলের মেহেবুব মাসুম শান্ত, আরিফুর রহমান তুষার, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, মাসুদুর রহমান, রাজু আহমেদ প্রমুখ।
নাগরিক টিভি/ আসা
