সহজে মিলছে কার-লোন, বেড়েছে হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা
দেশে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ি ক্রয়ে ঋণের সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মে’তে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নির্দেশনা অনুসারে, বৈদ্যুতিক, হাইব্রিড ও দেশে সংযোজিত গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারছে।
গাড়ির ক্রয়মূল্যের সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত এই ঋণের আওতায় আসছে এবং তা পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ আট বছর সময় পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যাংকাররা বলছেন, নীতিমালার এই পরিবর্তনে গাড়ি কেনার ঋণের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। গত দুই মাসে সিটি ব্যাংকে অটো-লোনের আবেদন বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
সিটি ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরূপ হায়দার বলেন, এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হলো হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির ঋণের আবেদন। সাধারণ বা নন-হাইব্রিড গাড়ির তুলনায় এসব গাড়ির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকেও (এমটিবি) কার-লোনের আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৬ সালের মে থেকে আগস্ট সময়ে ব্যাংকটিতে অটো-লোনের আবেদন ৮৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৫টিতে, যা জানুয়ারি থেকে এপ্রিল সময়ে ছিল ১৮২টি। এতে মাসিক গড় আবেদন প্রায় ৪৬টি থেকে বেড়ে হয়েছে ৮৪টি এবং ঋণ অনুমোদনের হার ৭৩ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৫ শতাংশ।
ব্র্যাক ব্যাংকেও এই খাতে জোরালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ব্যাংকটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেল ব্যাংকিং প্রধান মো. মাহীয়ুল ইসলাম বলেন, গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকরা এখন ক্রমবর্ধমান হারে অটো-লোনকে নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। তিনি আরও জানান, গাড়ি কেনার জন্য গ্রাহকরা এখন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিচ্ছেন, যদিও ব্যাংক সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে।
এমটিবির একজন কর্মকর্তা জানান, নতুন ৮০:২০ ঋণ-ইক্যুইটি সুবিধা এবং দেশের বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির যৌথ প্রভাবেই এই প্রবৃদ্ধিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি গ্রাহকদের বেশি জ্বালানি খরচ হওয়া গাড়ি পরিহার করে সাশ্রয়ী গাড়ির দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে।
// ইমরান //
