নেপালে বন্যা-ভূমিধসে আটকা ৯ বাংলাদেশি পর্যটক
আল-জাজিরা ও আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রবিবার ভোরে কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে গোরখা জেলায় বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে বুড়ি গণ্ডকি নদীর প্রবাহ আটকে গিয়ে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়। কাদামাটি ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে নদীতীরের দুই শতাধিক বাড়িঘর ভেসে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেতু, সড়ক ও তিনটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র। মানাসলু সংরক্ষণ এলাকা প্রকল্পের কর্মকর্তা ভুবন রাজ ওঝা জানান, বন্যায় ট্রেকিং পথের কয়েকটি অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পর্যটকদের চলাচল বন্ধ রয়েছে। যারা ফিরে যেতে চান, তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অন্যদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। জগৎ গ্রামে আটকে পড়া বাংলাদেশি পর্যটক মো. শাহাদাত হোসেন আনাদোলুকে জানান, তাদের হেলিকপ্টারে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে আশা করছেন তারা। তিনি বলেন, আকস্মিক বন্যার পানি গ্রামের নিচের অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। তারা নিরাপদে থাকলেও গতকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই এবং বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। খাবারের সরবরাহও কমে আসছে। নেপাল সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে ১২ জন বিদেশিসহ ৩২১ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা কমায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তবে ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন গ্রামবাসী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে গোরখা জেলার কর্তৃপক্ষ নদীর ভাটিতে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি জেলার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের বন্যার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। /শান্ত/