ঔষধি গাছ চাষে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি এখনো কৃষিনির্ভর। প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি ঔষধি গাছের বাণিজ্যিক চাষ কৃষকের বাড়তি আয় ও গ্রামে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারব্যবস্থা ও প্রক্রিয়াজাতকরণে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
তুলসি, থানকুনি, অ্যালোভেরা, নিম, কালোজিরা, হলুদ ও আদার মতো বিভিন্ন উদ্ভিদ দেশে পরিচিত। বাড়ির আঙিনা, পতিত জমি কিংবা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এসব উদ্ভিদ চাষ করা সম্ভব। ফলে প্রচলিত কৃষির সঙ্গে ঔষধি চাষ যুক্ত করে কৃষকের আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
নাটোরের লক্ষ্মীপুর-খোলাবাড়িয়া এলাকায় ঔষধি গাছের বাণিজ্যিক চাষের একটি বড় উদাহরণ তৈরি হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সেখানে বিভিন্ন ঔষধি গাছ চাষ করে কৃষকেরা লাভ করছেন। এক গবেষণায় ঘৃতকুমারীর ক্ষেত্রে হেক্টরপ্রতি সর্বোচ্চ ২১ লাখ টাকার বেশি নিট রিটার্ন পাওয়ার হিসাবও উঠে এসেছে।
ঔষধি গাছের বাণিজ্যিক চাষ শুধু কৃষকের আয়েই সীমাবদ্ধ নয়। চাষের পর সংগ্রহ, শুকানো, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও পরিবহনের সঙ্গে স্থানীয় অনেক মানুষ যুক্ত হতে পারেন। নারীরাও বাড়ির আঙিনা বা অল্প জায়গায় চারা উৎপাদন, গাছ চাষ ও প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণে যুক্ত হয়ে আয় করতে পারেন।
তবে মানসম্মত চারা, আধুনিক চাষপদ্ধতি, সংরক্ষণব্যবস্থা এবং নির্ভরযোগ্য বাজারের অভাব এই খাতের বড় বাধা। গবেষণাতেও উৎপাদক ও ক্রেতার মধ্যে দুর্বল যোগাযোগ, চাহিদার ওঠানামা এবং উন্নত প্রযুক্তির ঘাটতিকে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই অবস্থায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ, মানসম্মত চারা সরবরাহ, স্থানীয় সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র এবং ঔষধ ও হারবাল পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি বাজারসংযোগ তৈরি করা জরুরি। পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারলে ঔষধি চাষ কৃষকের বাড়তি আয়ের পাশাপাশি গ্রামীণ ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
/শান্ত/
