কলা চাষে সাড়া ফেলেছেন হাফিজুর
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পরিত্যক্ত জমি লিজ নিয়ে কলার বাগান গড়ে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন হাফিজুর রহমান সরদার (৪৫)। প্রায় চার একর জমিতে সাগর ও চাপাসব্রি জাতের ২৭০০টি কলাগাছ লাগিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে এক লাখ টাকার কলা বিক্রি করেছেন। বাগানের অবশিষ্ট কলা বিক্রি করে আরও ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন এই কৃষক।
বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে গড়ে তোলা বাগানে এখন সারি সারি কলাগাছে ফল ধরেছে। এর মধ্যে ১২০০টি সাগর কলার চারা গত বছরের আশ্বিন মাসে রোপণ করেন হাফিজুর। বেশির ভাগ গাছেই কলা ধরেছে।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা হাফিজুর বর্তমানে বোয়ালমারীতে বসবাস করছেন। স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান একেএম হামিদুল বারী বরুণ মিয়ার কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে কলা চাষ শুরু করেন তিনি। জমিটির বড় একটি অংশ আগে পরিত্যক্ত ছিলো। সেটি পরিষ্কার করে চাষের উপযোগী করেন হাফিজুর।
তিনি জানান, বাগান তৈরি থেকে ফলন আসা পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ কাঁদি সাগর কলা বিক্রি হচ্ছে। আকার ও মানভেদে প্রতি কাঁদি কলার পাইকারি দাম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা।
হাফিজুর বলেন, মাছ ও ফিলিপাইন জাতের আখ চাষের পর নতুন কিছু করার চিন্তা থেকে কলা চাষে আগ্রহী হন। নিয়মিত পরিচর্যার প্রায় ১০ মাস পর গাছে ফল আসতে শুরু করে। এখন কলার পাশাপাশি গাছের গোড়ায় জন্মানো চারাও বিক্রি করছেন তিনি। প্রতিটি চারা ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও তার বাগান দেখতে আসছেন। কেউ কলা কিনছেন, আবার কেউ চারা সংগ্রহ করে চাষের পরিকল্পনা করছেন। হাফিজুরের আশা, ভবিষ্যতে তার বাগানের কলা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতে পারবেন।
বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলভীর রহমান জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে হাফিজুরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হবে। স্থানীয়ভাবে কলার উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং এলাকার চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে।
/শান্ত/
