পারমাণবিক বিদ্যুতের পথে বাংলাদেশ, উৎপাদন ক্ষমতা কতো ওয়াট?
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ। রাশিয়ার নকশায় তৈরি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ভিভিইআর-১২০০ চুল্লির মাধ্যমে শুরু হচ্ছে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎযাত্রা। দুটি ইউনিট চালু হলে মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ৩১টি দেশে ৪১৭টি সক্রিয় পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে। এগুলোর সম্মিলিত নিট উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩৮০ গিগাওয়াট। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোতে রয়েছে কয়েক ডজন করে সক্রিয় চুল্লি। বাংলাদেশ দুটি চুল্লি দিয়ে এই যাত্রা শুরু করছে।
তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রাথমিক বিনিয়োগ অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, দীর্ঘ নির্মাণকাল, বড় প্রকল্পব্যাপ্তি ও কারিগরি জটিলতার কারণে এ ধরনের প্রকল্পে মূলধনি বিনিয়োগও বেশি হয়।
রূপপুর প্রকল্পের মূল চুক্তির মূল্য ছিল ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর ৯০ শতাংশ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় ঋণ এবং ১০ শতাংশ বাংলাদেশ অর্থায়ন করেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অতিরিক্ত ২৫৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দ অনুমোদনের পর প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় বেড়ে প্রায় ১ দশমিক ৩৯ ট্রিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ওয়ার্ল্ড নিউক্লিয়ার অ্যাসোসিয়েশন বলছে, নিরাপত্তা, জরুরি সাড়া, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ডিকমিশনিংয়ের ব্যয়ও পারমাণবিক কর্মসূচির অংশ।
আইএইএর ২০২৫ সালের নিরাপত্তা পর্যালোচনায় প্রশিক্ষণের কিছু ভালো চর্চার কথা বলা হলেও অগ্নিনিরাপত্তা, পরিচালনাগত তদারকি ও যন্ত্রপাতি সংরক্ষণে উন্নতির সুপারিশ করা হয়েছে।
ফলে রূপপুরের প্রকৃত পরীক্ষা শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে নয়—দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পরিচালনা, ঋণের দায় এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা অবকাঠামো সামলাতেও।
//রুশা//
