প্রশান্ত মহাসাগরে ভয়ংকর এল নিনো, বাংলাদেশে পড়বে কী প্রভাব?
প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার স্বাভাবিক ছকে বড় পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—এই পরিবর্তনের আঁচ বাংলাদেশে কতোটা পড়তে পারে?
এল নিনোর কারণে দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ু ও বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যেতে পারে। বাংলাদেশে এর সরাসরি সামুদ্রিক ধাক্কা না লাগলেও পরোক্ষভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বৃষ্টির ঘাটতি, খরা ও কৃষিতে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টিনির্ভর আমন চাষ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা-ডব্লিউএমওর সর্বশেষ পূর্বাভাসে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর-নভেম্বর সময়ে নিনো ৩.৪ অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ‘হাজার বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো’—এই দাবি এখনই নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক সত্য নয়। এত দীর্ঘ সময়ের তুলনার জন্য পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণমূলক তথ্য বিজ্ঞানীদের হাতে নেই।
এল নিনোর প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রাও বাড়তে পারে। ফলে বাংলাদেশে গরম ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়লেও নির্দিষ্ট কোনো মাসে কতোটা তাপমাত্রা বাড়বে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
একইভাবে বৃষ্টি কমার সম্ভাবনা থাকলেও বন্যার ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হবে না। অতিবৃষ্টি, উজানের ঢল ও স্থানীয় আবহাওয়ার ওপরও পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
তাই আতঙ্ক নয়, বরং আবহাওয়া অধিদপ্তর, ডব্লিউএমও ও এনওএএর নিয়মিত পূর্বাভাস অনুসরণ করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: নোয়া, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা, আইআরআই ও ক্লাইমেট রিয়ালানাইজার।
//আরএস//
