মিয়ানমার ইস্যুতে টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত, সদর দপ্তরে পুলিশের অভিযান
মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তা ও মদদ দেওয়ার অভিযোগে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলিনরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে নরওয়ের পুলিশ। ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এবং সামরিক কর্তৃপক্ষকে গ্রাহকদের তথ্য সরবরাহের বিষয়টি তদন্তের আওতায় এসেছে।
গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে টেলিনরের সদর দপ্তরে অভিযান চালায় পুলিশের তদন্তকারী দল। দেশটির জাতীয় অপরাধ তদন্ত সংস্থা ও নিরাপত্তা পুলিশ এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তার অভিযোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নের সময় টেলিনর দেশটির গ্রাহকদের আগের কলের তথ্যসহ যোগাযোগ ও অবস্থানসংক্রান্ত বিভিন্ন উপাত্ত সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে সরবরাহ করেছিলো। এসব তথ্য রাজনৈতিক বিরোধীদের শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয়েছিলো কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
টেলিনর জানিয়েছে, নরওয়ের তদন্তকারীদের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করছে এবং বিষয়টি পরিষ্কার করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন ছিলো। সামরিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করলে টেলিনরের কর্মীদের কারাদণ্ড, নির্যাতন এমনকি মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকি ছিলো। কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
চলতি বছরের শুরুতে সুইডেনের একটি অলাভজনক সংস্থা টেলিনরের বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, মিয়ানমারের সামরিক জান্তাবিরোধী সন্দেহভাজন রাজনৈতিক বিরোধীদের কল ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য টেলিনর প্রকাশ করেছিলো।
//আইই//
