স্ত্রীকে ঘরের কাজে সাহায্য করা ছোট হওয়ার নয়
আজকাল অনেক পরিবারেই স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকরি করেন। প্রতিটি বিবাহিত মেয়ের অভিযোগ-স্বামী সহযোগিতাপূর্ণ নয়। ছেলেরা সংসারের স্বচ্ছ্বলতার জন্যে চাকরিজীবি বউ চায়। আমাদের সমাজে ইদানীং প্রায়ই একটি কথা শোনা যায়-ঘরের বউ চায় শাবানার মতো কিন্তু স্মার্টনেস চায় ঐশ্বরিয়া রাই। কিন্তু আপনি যদি সংসারি বউ চান তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে তার থেকে কোনো আর্থিক সহায়তা পাবেন না। আর চাকরিজীবি বউ চাইলে তার থেকে সংসারের সমস্ত সুযোগ সুবিধা পাবেন না। এটা আপনাকে মাথায় রাখতে হবে।
অফিস শেষে বাড়ি ফিরে বউ আপনাকে চা/কফি করে দিবে, রান্না করে গরম গরম খাবার খাওয়াবে আর আপনি বসে টিভি দেখবেন, কিংবা বন্ধুদের সাথে ফোনে গল্প করবেন-তেমন মানসিকতা থাকলে হবে না। সেক্ষেত্রে আপনাকেও তার কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। চা/কফিটা না হয় আপনিই করুন, দুজনে মিলে খান। এরপর আপনার স্ত্রী যখন রান্না করতে যাবে, হাতে হাতে তাকে কিছু কাজ এগিয়ে দিন। এতে আপনার স্ত্রী খুশি হবেন, কাজেও অনুপ্রেরণা পাবেন। রান্না শেষে খাবারটা না হয় আপনিই পরিবেশন করুন। খাওয়া শেষে নিজের প্লেটটা নিজেই ধুয়ে নিন। আপনার স্ত্রী বাকি প্লেট বাটিগুলো ধুতে থাকলে আপনি খাবারগুলো গুছিয়ে রাখুন। তাতে স্ত্রীর উপর কাজের চাপ অনেকটা কমে যাবে।
স্ত্রী যদি চাকরিজীবি না হয়, তবে বাড়ি ফিরে তাকে কিছু সময় দিন। তাতে তার সারাদিনের ক্লান্তি দূর হবে। কোনো একটা ছুটির দিনে তাকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আসতে পারেন। পথের পাশে দাঁড়িয়ে এক প্লেট ফুচকাই খান। তাতে সংসার এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনে তার ক্লান্তি দূর হবে। ভালোবাসা এবং হৃদ্যতা বাড়বে।
স্ত্রীকে পাশে থেকে সহায়তা করলে দুজনের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্মান বাড়ে। সহযোগিতা মানে শুধু রান্নাই করতে হবে, তা নয়। ছোটছোট কাজগুলো পাশে থেকে করে দিলেও সাহায্য হয়।
/শিউলী/
