কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলায় ১২ জনের যাবজ্জীবন
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে একটি হত্যা মামলায় ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া দুই আসামিকে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সাতজনকে মামলা থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ নাদিরা সুলতানা আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) মো. হাফিজুল ইসলাম মুনীর।
দণ্ড পাওয়ারা হলেন- উপজেলার চাপড়া গ্রামের প্রয়াত তোজাম্মেলের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন (৭৩), একই এলাকার প্রয়াত সামেদ আলীর ছেলে আইন উদ্দিন (৬৮) ও আক্তার হোসেন (৪৩), আয়েন উদ্দিনের ছেলে সাবু (৪১), আফসার শেখের ছেলে সোহাগ (৩৮), প্রয়াত আজিরদ্দিনের ছেলে শরিফুল ইসলাম (৪৩), মজিবর রহমানের ছেলে বিপুল (৩৪), সবর উদ্দিনের ছেলে বদর উদ্দিন (৬৮), আসাদুলের ছেলে আফসার সেখ (৬৫), জামির সেখের ছেলে সুমিন (৩৮), আফসার সেখের ছেলে সেলিম (৪১) এবং আয়েন উদ্দিন সেখের ছেলে আবু (৩৭)।
দুই বছর কারাদণ্ড পাওয়ারা হলেন- একই এলাকার আমির হোসেনের ছেলে জুলু (৩৮) এবং রাহুল (৩৪)।
মামলার বরাতে পিপি হাফিজুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক আধিপত্য ও জমি নিয়ে চর-চাপড়া গ্রামের প্রয়াত ইমান আলী ওরফে হেলা সেখের ছেলে সাহেব আলীর সঙ্গে আসামিদের বিরোধ চলছিল। ২০১৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন সাহেব আলীকে হত্যা করে লাশ একটি কলাবাগানের পাশে ফেলে রাখেন । পরে এ ঘটনায় সাহেব আলীর ছোট ভাই আহম্মেদ আলী ওরফে আকম আলী বাদী হয়ে ২৪ জনের নামসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কুমারখালী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক কাজী কামাল হোসেন ২১ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করেন।
সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ১২ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা এবং দুই আসামিকে দুই বছর কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান হাফিজুল।
/আকরাম/
