কোন কোন দেশে আছে ইলেকট্রিক ট্রেন, বিদ্যুৎ খরচ কেমন?
প্রতীকী ছবি।
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আসছে ইলেকট্রিক ট্রেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রুটে ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০৩১ সালের মধ্যে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার।
জ্বালানি সাশ্রয়, পরিবেশদূষণ কমানো এবং দ্রুতগতির রেল যোগাযোগের প্রসারের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইলেকট্রিক বা বৈদ্যুতিক ট্রেনের ব্যবহার বাড়ছে। ইউরোপের বহু দেশ, চীন, জাপান, ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রেল নেটওয়ার্কের বড় অংশ ইতোমধ্যে বিদ্যুতায়িত হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে যুক্ত হতে যাচ্ছে এই ট্রেন।
ইলেকট্রিক ট্রেনে বিদ্যুৎ খরচ কেমন?
একটি ইলেকট্রিক ট্রেনের বিদ্যুৎ খরচের নির্দিষ্ট কোনো একক হার নেই। ট্রেনের ওজন, গতি, যাত্রীসংখ্যা, রুটের ঢাল, স্টেশনের সংখ্যা, এসি বা হিটিং ব্যবহারের মতো বিভিন্ন বিষয়ের ওপর খরচ নির্ভর করে।
ভারতীয় ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের আজমির রেলওয়ে ডিভিশনে বৈদ্যুতিক ট্রেন এক কিলোমিটার পথ যেতে ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। ভারতীয় রেলওয়ের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম সাড়ে ৬ রুপি। ফলে প্রতি কিলোমিটারে বিদ্যুতের খরচ দাঁড়ায় ১৩০ রুপি। অন্যদিকে, ডিজেল ইঞ্জিন প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৩.৫ থেকে ৪ লিটার ডিজেল খরচ করে। এতে প্রতি কিলোমিটারে আনুমানিক ৩৫০ থেকে ৪০০ রুপি খরচ হয়।
ইলেকট্রিক ট্রেন কী পরিবেশবান্ধব?
ইলেকট্রিক ট্রেন চলার সময় সরাসরি ডিজেল পোড়ায় না, ফলে ট্রেনের নিজস্ব চলাচলস্থলে ধোঁয়া ও নির্গমন থাকে না। তবে এর পরিবেশগত সুবিধা নির্ভর করে বিদ্যুৎ কোথা থেকে আসছে তার ওপর।
যদি রেল ব্যবস্থার বিদ্যুৎ সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ বা অন্যান্য কম-কার্বন উৎস থেকে আসে, তাহলে সামগ্রিক কার্বন নিঃসরণ আরও কমানো সম্ভব। অন্যদিকে বিদ্যুৎ যদি প্রধানত কয়লা বা অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উৎপাদিত হয়, তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যায়ে কার্বন নিঃসরণ থেকে যায়।
// ইমরান//
