অবসরে কৃষিকাজ: মিলবে পুষ্টি, বাড়বে আয়
শখের পাশাপাশি কৃষিকাজ হতে পারে পরিবারের পুষ্টি নিশ্চিত ও বাড়তি আয়ের সহজ উপায়। বাড়ির আঙিনা, ছাদ কিংবা ছোট পরিসরের জায়গাতেও পরিকল্পিতভাবে সবজি চাষ, গবাদিপশু পালন, মাছ চাষ এবং ফলদ ও বনজ গাছ লাগানো সম্ভব। এতে একদিকে পরিবারের খাদ্যচাহিদা পূরণ হয়, অন্যদিকে অবসর সময়ও কাজে লাগানো যায়।
কৃষিকাজ শুরুর আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো মাটি প্রস্তুত করা। ঘরোয়া উপায়ে রান্নাঘরের সবজির খোসা, লতাপাতা, কলাগাছের অংশ, ডিমের খোসা, শুকনো গোবর ও সামান্য ছাই ব্যবহার করে জৈব সার তৈরি করা যায়। এসব উপকরণ স্তরে স্তরে মাটি দিয়ে আবদ্ধ পাত্র বা বস্তায় রেখে প্রায় এক মাস পর ভালোভাবে পচিয়ে নিতে হবে। পরে শুকিয়ে চালনিতে ছেঁকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে গাছ লাগানো যায়।
এই ধরনের মাটি ব্যবহার করে বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, শসা, ধুন্দল ও লালশাকসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা সম্ভব। এতে পরিবারের সবজির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদন বিক্রি করে আয়ও করা যায়।
ইনডোর প্ল্যান্টের জন্যও দরকার উপযুক্ত মাটি
ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে মানি প্ল্যান্ট, লাকি ব্যাম্বু বা স্নেক প্ল্যান্টের মতো ইনডোর প্ল্যান্ট রাখা হলেও সঠিক মাটি ছাড়া এসব গাছ ভালোভাবে বেড়ে উঠবে না। এ ক্ষেত্রে মাটি, বালি, ছাই, কোকোপিট বা কাঠের গুঁড়া এবং ডিমের খোসার গুঁড়া পরিমাণমতো মিশিয়ে ঝুরঝুরে মাটি তৈরি করা যায়। উপকরণগুলো শুকনো রাখা জরুরি।
গবাদিপশু ও মাছ চাষেও বাড়তে পারে আয়
গবাদিপশু পালন পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আয়ের সুযোগ তৈরি করে। গরুর দুধে প্রচুর পরিমাণ পুষ্টি উপাদান থাকায় পারিবারিক পর্যায়ে গবাদিপশু পালনের গুরুত্ব রয়েছে।
অন্যদিকে দৈনন্দিন খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও মাছের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই উপযুক্ত সুযোগ থাকলে পারিবারিক পর্যায়ে মাছ চাষও করা যেতে পারে।
/শান্ত/
