নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা
চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) জন্য নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রৈমাসিক এই মুদ্রানীতির বিভিন্ন দিক ও লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরেন ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান।
ঘোষিত মুদ্রানীতিতে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফেসিলিটি (এসএলএফ) বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদী ঋণের সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ শতাংশ। অন্যদিকে আমানতের জন্য স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফেসিলিটির (এসডিএফ) হার আগের মতোই সাড়ে ৭ শতাংশে বহাল রাখা হলো। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা আগের মতো ৬ দশমিক ৮ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ঋণে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ ও সরকারি খাতে ২১ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছে সংস্থাটি।
সুদহার ৯.৫০ শতাংশে রাখার যুক্তি দিয়ে ডেপুটি গভর্নর বলেন, "প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় এই হার বেশ উচ্চ এবং সে কারণে বর্তমান মুদ্রানীতির অবস্থানকে টাইট বা সংকোচনমূলক বলা যায়।"
সরকারি কর্মচারীদের পে স্কেলের ঘোষণা মূল্যস্ফীতিতে চাপ ফেলতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, "পে স্কেলের অ্যানাউন্সমেন্ট, এগুলো ডিমান্ড সাইড ফ্যাক্টরকে কিছুটা হলেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আসলে ইনফ্লেশনের যে ডিজইনফ্লেশন রেট, কোনটা আমরা লক্ষ্য করছিলাম, সেটা সামনের দিকে কতোটা রক্ষা হবে, এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে একটু দ্বিধা কাজ করছে।"
ঘন ঘন মুদ্রানীতি পর্যালোচনা না করার কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক তথ্যের অপ্রাপ্তির কথা জানান হাবিবুর রহমান। বিশেষ করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যের বিলম্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "বিবিএস যে তথ্য দেয়, তা অনেক পরে। মাস শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে শিল্প উৎপাদনের তথ্য।"
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর কেন উপস্থিত ছিলেন না, এমন প্রশ্নে ডেপুটি গভর্নর জানান, সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। উল্লেখ্য, গত জুনের মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার ছিলো ১০ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ৫০ শতাংশীয় পয়েন্ট কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছিলো।
//আইই//
