যুক্তরাষ্ট্রে মজুত বাড়ায় কমলো তেলের দাম, অনিশ্চয়তা কাটেনি
সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা দুই দিনের ঊর্ধ্বগতির পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেলের মজুত বাড়ায় বাজারে দামে চাপ কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ-ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে বাজার এখনো চাপে রয়েছে।
বুধবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৭.৮৪ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) প্রায় ১০৪.৮৯ ডলারে লেনদেন হয়। আগের দিনের লেনদেন শেষে উভয় বেঞ্চমার্কই ১৯ মে’র পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিলো। মঙ্গলবার দিনের শেষে ব্রেন্টের দাম ৩.০৭ ডলার বা ২.৯ শতাংশ বেড়ে ১০৮.৭৫ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৪.৪৪ ডলার বা ৪.৩৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৮৩ ডলারে ওঠে।
তেলের বাজারে নতুন করে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন। ইয়েমেনের হুথিদের হামলায় পাইপলাইনটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সৌদি আরবকে তেল রপ্তানির বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটির লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে তেল লোডিং স্থগিত হওয়ার খবরও এসেছে।
এর প্রভাব ইউরোপীয় বাজারেও পড়ছে। সৌদি আরব ইউরোপের কয়েকজন ক্রেতাকে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকের কিছু অপরিশোধিত তেলের চালান বাতিলের কথা জানিয়েছে বলে শিপিং-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে। এতে ইউরোপীয় শোধনাগারগুলো বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তাও তেলের বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমেছে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ৪টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১০। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ মজুতের তথ্য বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের হিসাবে, ১১ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৭১ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। অথচ বিশ্লেষকেরা প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। পেট্রল ও ডিজেলের মজুতও বেড়েছে।
অন্যদিকে লিবিয়াতেও তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। দেশটির ৩টি তেলক্ষেত্রে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। পেট্রোলিয়াম ফ্যাসিলিটিজ গার্ডের বিক্ষোভকারী সদস্যরা হামাদা-জাওইয়া অপরিশোধিত তেল রপ্তানি পাইপলাইনের একটি ভালভ বন্ধ করে দেওয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যেও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের ফিউচার রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ ও রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনের কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দেশটির রপ্তানিযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত কয়েক দিনের মধ্যেই চাপে পড়তে পারে। গোল্ডম্যান স্যাকসের এক বিশ্লেষণে পাইপলাইন মেরামতের সময়সীমা খুব দ্রুত শেষ হওয়া থেকে শুরু করে প্রায় ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
//আইই//
