নোট অব ডিসেন্ট ইস্যুতে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বৈরতান্ত্রিকতা রোধে কোনো ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে না থাকার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিলো, সরকার সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে বিরোধী দল আলোচনার টেবিলে এলে সমঝোতার ভিত্তিতে প্রস্তাবিত সংবিধানে 'নোট অব ডিসেন্ট' বা ভিন্নমতের ইস্যুতে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই কথা জানান।
আমাদের আলোচনার দ্বার উন্মুক্ত। আমরা আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে বিরোধী দলকে আহ্বান জানাই, তারা যেন সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আলোচনায় আসেন।
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, মঙ্গলবার প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠকে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার গঠন প্রক্রিয়া, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করাসহ নানা পরামর্শ দেন সাংবাদিকরা। কেউ কেউ দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের যৌক্তিকতা, প্রধানমন্ত্রীর দুই মেয়াদের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেখান থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বিস্তর প্রস্তাব পাওয়া গেছে।
সংবিধানের অন্যান্য সংশোধনীর প্রস্তাব সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ ও স্বাধীনতা এবং সংবিধানের প্রস্তাবনা (প্রিয়াম্বল) ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো ও রূপরেখা কী হবে, সেই বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এনিয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনা ও প্রস্তাব প্রয়োজন, যা পরবর্তীতে পার্লামেন্ট বিবেচনা করবে।
দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানে বলা আছে বাংলাদেশ একক রাষ্ট্র (ইউনিটারি গভর্মেন্ট)। এখানে অঙ্গরাজ্যের কোনো সিস্টেম নেই। তাই দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা, সেই বিষয়ে কেউ কেউ মতামত দিয়েছেন। তবে 'জুলাই জাতীয় সনদে' দ্বিকক্ষ পার্লামেন্টের বিষয়ে ঐকমত্য থাকায়—আমরা সেভাবেই এগোতে চাই। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পার্লামেন্টই নেবে।
// ইমরান//
