দেশে কেন বাড়লো তেলের দাম?
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার দিনই বাংলাদেশে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন ও অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সরকারের ব্যাখ্যা, এক দিনের আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সরকার বলছে, গত মার্চ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে বাংলাদেশে সে অনুযায়ী দাম সমন্বয় করা হয়নি। এতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বড় অঙ্কের লোকসান হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা এবং দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন দামে ডিজেল ১৩৫, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ ও অকটেন ১৬৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে। সরকার বলছে, দাম বাড়ানোর ফলে বিপিসির লোকসান কমবে এবং জ্বালানি পাচারের ঝুঁকিও কমবে।
অন্যদিকে, ২১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্টের দাম ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৫ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে ৯৮ দশমিক ৪৬ ডলারে নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রত্যাশার তুলনায় সরবরাহ শক্তিশালী থাকায় এই পতন হয়েছে।
অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক বাজারে এক দিনের দাম কমলেও বাংলাদেশে নতুন মূল্য নির্ধারণে আগের কয়েক মাসের আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ ও বিপিসির জমে থাকা লোকসান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
/শান্ত/
