শ্রীলঙ্কায় গণকবরের সন্ধান, উদ্ধার ৫৭২ জনের কঙ্কাল
শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলের জাফনার চেম্মানি এলাকায় একটি গণকবর থেকে শিশু ও নবজাতকসহ ৫৭২ জনের কঙ্কালাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এটি শ্রীলঙ্কায় আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় গণকবর বলে মনে করা হচ্ছে।
১৯৮৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় চলা গৃহযুদ্ধে প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত এবং প্রায় ২৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ হন। নিহত ও নিখোঁজদের বড় একটি অংশ ছিলেন তামিল। ১৯৯৫ সালে সেনাবাহিনী জাফনা উপদ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর চেম্মানি এলাকায় সামরিক তৎপরতা বাড়ে। সেখানে সেনা ক্যাম্প ও চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়। একই সময়ে বহু বেসামরিক মানুষ নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগও সামনে আসে।
নতুন গণকবরের সন্ধানের পর গৃহযুদ্ধের সময় নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলো চেম্মানিতে প্রতিবাদ ও স্মরণানুষ্ঠান করছে। উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষা হলে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ স্বজনদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছে।
গত কয়েক দশকে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন এলাকায় ২০টির বেশি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে এগুলোর কোনোটিকেই জোরপূর্বক গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিশ্চিতভাবে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে নতুন তদন্ত নিয়েও অনেক তামিল পরিবারের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
২০১৮ সালে মান্নারে একটি গণকবর থেকে ৩৫০টির বেশি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছিলো। সেই তদন্তও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। এবার পরিবারগুলো পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জবাবদিহির দাবি জানিয়েছে।
চেম্মানি থেকে উদ্ধার করা দেহাবশেষ বর্তমানে জাফনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেনসিক বিভাগের হেফাজতে রয়েছে। এখনো ডিএনএ পরীক্ষা শুরু হয়নি। সরকার জানিয়েছে, চেম্মানির তদন্তে তারা সহযোগিতা করছে। বিচারমন্ত্রী হর্ষণা নানায়াক্কারা বলেছেন, খননকাজ চালিয়ে যাওয়া হবে এবং উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
// ইমরান//
