থাইল্যান্ডে ইসলামিক রাষ্ট্রের ঘোষণা, বাড়ছে উত্তেজনা
সংগৃহীত ছবি
থাইল্যান্ডের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণাঞ্চলে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে মালয়-মুসলিম বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)। স্বাধিকার ও স্বাধীন রাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন গোষ্ঠীটির শান্তি আলোচনার প্রতিনিধিদলের মুখপাত্র নিকমাতুল্লাহ সেরি। তবে ব্যাংকক এই দেশ ভাগের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
কুয়ালালামপুরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিআরএন মুখপাত্র নিকমাতুল্লাহ সেরি বলেন, "এই সংগ্রাম কিয়ামত পর্যন্ত চলবে। দীর্ঘদিন ধরে চলা বৈষম্যের অবসানে আমাদের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া অবধি আমরা লড়াই অব্যাহত রাখব।" তিনি জানান, থাই সরকারের কাছে ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন ইসলামিক শাসনব্যবস্থার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা শরিয়া আইন ও বিশেষ আদালতের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে ওই প্রস্তাবে।
অন্যদিকে, থাইল্যান্ডের প্রধান আলোচক থানুত সুবর্ণানন্দ জানিয়েছেন, আলোচনার টেবিলে থাইল্যান্ড ভাগ করার কোনো সুযোগ নেই। তবে চেকপয়েন্ট কমানো ও যুদ্ধবিরতি অঞ্চল তৈরির বিষয়গুলো বিবেচনাধীন রয়েছে। থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাময়িক আলোচনা স্থগিত থাকলেও শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।
মালয়েশিয়া সীমান্তবর্তী থাইল্যান্ডের দক্ষিণ অঞ্চলের চারটি প্রদেশে ১৯৬০-এর দশক থেকেই স্বাধিকার আন্দোলন চলছে। এলাকাটি একসময় স্বাধীন "পাতানি সালতানাতের" অংশ ছিলো, যা ১৯০০-এর দশকের শুরুতে তৎকালীন সিয়াম বা বর্তমান থাইল্যান্ড দখল করে নেয়। স্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থা ডিপ সাউথ ওয়াচের তথ্যানুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে এই সংঘর্ষে ৭ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
গত জুলাইয়ে এক হামলায় ৫ জন থাই সৈন্য নিহত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক আলোচনা স্থগিত ছিলো। তবে সংকট কাটাতে আগামী অক্টোবরে থাই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিআরএন-এর একটি গোপন বৈঠক হতে পারে বলে জানা গেছে।
//আইই//
