বাওবাব গাছ: আফ্রিকার মরুভূমিতে প্রাকৃতিক পানির ট্যাংক
মরুভূমির মানুষের কাছে একটি প্রয়োজনীয় গাছের নাম বাওবাব। গ্রীষ্মকালে যখন তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি তখন মরুভূমিতে পানি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। ওই সময় মরুভূমির কিছু কিছু বৃক্ষ ও ক্যাকটাস তাদের শরীরে পানি সংরক্ষণ করে রাখতে পারে। তাদের মধ্যে অন্যতম হল বাওবাব বৃক্ষ।
বাওবাব গাছের জেনাস নাম Adansonia. এই নামকরণ করা হয়েছে ফ্রান্সের প্রকৃতিবিদ মাইকেল এডানসনের নাম অনুসারে। তিনিই প্রথম বাওবাব গাছের একটি প্রজাতির নামকরণ করেন Adansonia digitata. এটি মালভেসি গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।
প্রজাতির ভিন্নতায় বাওবাব গাছের আকার ও আকৃতির কিছুটা হেরফের হতে পারে। সেটা খুবই সামান্য। বাওবাব গাছের নিচের অংশ গোলাকার এবং কোনো শাখাপ্রশাখা নেই বললেই চলে। ওপরের দিকে ঝাড়ুর মতো কিছু শাখা-প্রশাখা রয়েছে। ১২ মাসের ৯ মাসই বাওবাব গাছের কোনো পাতা থাকে না।
বাওবাব বৃক্ষের ৯টি প্রজাতি পৃথিবীতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬টি প্রজাতি পাওয়া যায় মাদাগাস্কারে, আফ্রিকায় ২টি প্রজাতি এবং অস্ট্রেলিয়ায় ১টি করে প্রজাতি পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়াতে এই গাছকে বলা হয় বোতল গাছ। সাধারণত এটি লম্বায় প্রায় ৫-৩০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং ব্যাস হতে পারে ৭-১১ মিটার পর্যন্ত।
বাওবাব গাছটির বিশেষত্ব এই গাছ প্রায় ৫ হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। আফ্রিকায় পাওয়া কিছু বাওবাব গাছের বয়স এক হাজার বছরেরও বেশি। শুষ্ক মরুভূমিতে এই গাছ প্রকৃতির পানির ট্যাংক হিসেবে কাজ করে। শুষ্ক অঞ্চলে টিকে থাকার জন্য এই গাছ নিজ দেহে ১ লাখ ২০ হাজার লিটার পর্যন্ত পানি সংরক্ষণ করতে পারে। তাই এই বৃক্ষকে জলাধার গাছ বলা হয়।
বাওবাব গাছের ফুলগুলো সাধারণত বর্ষা কালের শুরুর দিকে সন্ধ্যা বেলায় ফোটে এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টা বেঁচে থাকে। গাছের ফলগুলো বড় আকারের হয়। একেকটির ওজন প্রায় দেড় কেজির মতো। দেখতে অনেকটা নারকেলের মতো। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও ফাইবার। ফল থেকে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত শাঁস, যা বেশ সুস্বাদু খাবার। টক-মিষ্টি স্বাদের বাওয়াব ফল দুগ্ধজাত খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বাওবাব ফল শুকিয়ে গুঁড়ো করে খাবার, পানীয় ও আয়ুর্বেদিক ওষুধে ব্যবহার হয়। গাছের বিভিন্ন অংশ (পাতা, ছাল, বীজ, শেকড়) ডায়রিয়া, জ্বর, প্রদাহ, ও চর্মরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশে মূলত এই বাওবাব গাছটি অনেক বিরল। তবে কিছু পুরনো গাছ এখনো টিকে আছে, তার মধ্যে রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি এলাকায় একটি ঐতিহাসিক বাওবাব গাছ আছে। হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই গাছটি লাগানো হয়েছে। যা এখন পযন্ত দৃশ্যমান হয়ে রয়েছে।
/ইমরান/
