বাংলাদেশি নাতির নৈপুণ্যে মুগ্ধ যুক্তরাষ্ট্র
বাংলাদেশের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক। আর ফুটবলে স্বপ্নের ঠিকানা যুক্তরাষ্ট্র। সেই কাভান সুলিভান এবার জায়গা করে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই এসেছে এই ডাক। ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন করে দল সাজাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। তার ২৮ সদস্যের দলে জায়গা পেয়েছেন কাভান।
কাভানের বাংলাদেশি শিকড় তার নানি সুলতানা আলমের মাধ্যমে। ঢাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুলতানা পরে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার পর কাজ করেছেন জাতিসংঘেও। কাভানের মাঝের নাম ‘আয়াজ’ও এসেছে তার মাতৃপরিবারের ঐতিহ্য থেকে।
কাভানের বড় দুই ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভানও ফুটবলার। তারা বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। অর্থাৎ একই পরিবারের তিন ভাইয়ের গায়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দুই দেশের ফুটবলের ছাপ।
ফুটবলে কাভানের উত্থানও অবিশ্বাস্য। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই মাত্র ১৪ বছর ২৯৩ দিন বয়সে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে এমএলএসে অভিষেক করেন তিনি। তাতেই ভেঙে দেন ফ্রেডি আদুর রেকর্ড। হয়ে যান উত্তর আমেরিকার বড় পেশাদার দলীয় ক্রীড়ায় সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক করা খেলোয়াড়।
তার প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন ২০২৪ সালেই কাভানের সঙ্গে রেকর্ড গড়া চুক্তি করে। আর চুক্তির পথ ধরেই ১৮ বছর বয়সে তার ম্যানচেস্টার সিটিতে যাওয়ার কথা। এখন সেই কাভানের সামনে আরও বড় মঞ্চ। যুক্তরাষ্ট্রের দলের জার্সি। জাতীয় দলে অভিষেক হলে তিনি হবেন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়দের একজন।
বাংলাদেশের মাটিতে হয়তো কখনো কাভানের ফুটবল শুরু হয়নি। কিন্তু তার রক্তে মিশে আছে বাংলাদেশের গল্প। ঢাকার এক নারীর হাত ধরে যে গল্প পাড়ি দিয়েছিলো আটলান্টিক, সেই গল্পের নতুন অধ্যায় এখন লেখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল মাঠে। আর সেই গল্পের নাম-কাভান সুলিভান।
শান্ত
