সুদ কমেছে, তারল্য বেড়েছে; তবু বিনিয়োগে ভাটা
ঋণের সুদ কমেছে, ব্যাংকে তারল্যও পর্যাপ্ত। আমদানি নীতিতেও শিথিলতা এসেছে। এরপরও চলতি অর্থবছরের শুরুতে শিল্পের মূলধনি যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি কমেছে। এতে নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে ১৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ১৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। অর্থাৎ আমদানি কমেছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ।
একই সময়ে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসি নিষ্পত্তি ১৯৩ কোটি ৭৭ লাখ ডলারে নেমেছে, যা আগের বছরের জুলাইয়ে ছিল ২০৮ কোটি ১৭ লাখ ডলার। এই খাতে আমদানি কমেছে ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ।
এদিকে জুলাইয়ে ব্যাংকঋণের গড় সুদ ১১ দশমিক ৮১ শতাংশে নেমেছে, যা এক বছর আগে ছিল ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ। নীতি সুদও কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিনিয়োগের বাধা এখন শুধু ঋণের সুদ বা অর্থের সংকটে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যবসায়িক আস্থার ঘাটতি, গ্যাস-বিদ্যুতের অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, দুর্বল চাহিদা ও নীতির স্থিতিশীলতার অভাবও বিনিয়োগে প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশ-থাই চেম্বারের সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগের আগে গ্যাস-বিদ্যুতের নিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয় ও বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, শুধু ব্যাংকে তারল্য বাড়ালেই বিনিয়োগ বাড়বে না; প্রয়োজন নীতিগত আস্থা, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, সহনীয় উৎপাদন ব্যয় ও বাজারের নিশ্চয়তা।
/শান্ত/
