ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ভারতের বিরোধ এখন প্রকাশ্যে
সংগৃহীত ছবি
বাণিজ্য, সন্ত্রাসবাদ ও পাকিস্তান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রকাশ্য বিরোধ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে এক অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ওয়াশিংটনের নীতিমালার কড়া সমালোচনা করেন। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপের কারণে এতোদিন নীরব থাকা নয়া দিল্লি এখন বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হলো।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্ক নিয়ে বিরোধ ক্রমশ বাড়ছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিলো ১৪ হাজার ৯১০ কোটি ডলার, যেখানে ভারতের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিলো ৫ হাজার ৮৪০ কোটি ডলার। তবে কৃষি খাতের বাজার উন্মুক্ত করার মতো জটিল বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। এছাড়া রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের নতুন আইনের কারণে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও চাপে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক অজয় বিসারিয়া।
পাকিস্তান ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যুও এই বিরোধের অন্যতম কারণ। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ৪ দিনের সংঘাতের পর ট্রাম্প মধ্যস্থতার দাবি করায় অস্বস্তিতে পড়ে নয়া দিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, "প্রতিবেশী দেশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদের শিকার হওয়া ভারতের উদ্বেগ যথাযথভাবে উপলব্ধি করছে না যুক্তরাষ্ট্র।" বিশ্লেষক হর্ষ পান্তের মতে, পাকিস্তানের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের বাড়তি মনোযোগ ভারতের অসন্তোষ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি ভারতের নাগরিকদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আগামী বছর ভারতের কয়েকটি রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন থাকায় মোদি সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে বলে জানান অজয় বিসারিয়া। আল জাজিরার প্রতিবেদন।
//আইই//
